দুর্বাচারা প্রাইমারী স্কুলের বন্ধু

যেখান থেকে আমার প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম সোপান রচিত হয়েছিল, তারাই তো আমার প্রকৃত সহপাঠি বন্ধু। তবে আমরা যে সময় গ্রামে বসবাস করতাম তখন গ্রামের ২/৪ ক্লাস উপরের ছেলে মেয়েরা কখনো একে অন্যের বন্ধু বনে যেত। সোজা সাপ্টা ওদেরকে নাম ধরে ডাকা চলতো। ধীরে ধীরে কিছুটা ভদ্রতার পরশ গায়ে লাগাতে সে অবস্থার কিয়ৎ পরিবর্তন হয়েছে। এই অংশে আমি আমার সহপাঠি বন্ধু ও গ্রামের অপরাপর সেসব বন্ধুদের সাথে আমার সখ্যতার চিত্র তুলে ধরতে চেষ্টা করবো।
কবে কখন প্রথম স্কুলে গিয়েছি সে কথা মনে করতে পারিনা। এখন তো সবে ইস্কুলে প্লে গ্রুপ, নার্সারী এসব ক্লাস পড়ে পড়ালেখা শুরু করতে হয় কিন্তু আমাদের সময় সে সবের বালাই ছিল না। আমরা পড়তাম শিশু শ্রেণিতে যাকে বলা হতো “এ্যানফ্যান” ক্লাস। প্রকৃতার্থে সেটা হবে “এ্যানফ্যান” নয় Infant class. ইনফ্যান্ট ক্লাসের পরে ছিল ক্লাস ওয়ান। বেশ মনে করতে পারি ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ালেখা দুপুর ১২ টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত এবং ক্লাস থ্রি ফোর এবং ফাইভ এদের ক্লাস চলতো বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। ফলে যে বছর (১৯৭০) ক্লাস থ্রি তে উঠলাম, সে বছর যেন আনন্দ আর ধরে না, মনে হলো বেশ বড় হয়ে গেছি কারণ বিকেল ৪ টা অব্দি ক্লাস করতে হবে; কি দারুণ মজার ব্যাপার!
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি, তাই আমাদের মত অনেকের জীবনে একটা বছর না পড়েই পরের ক্লাসে উঠে গেছি। মুক্তিযুদ্ধের পরে যখন আবার পড়ালেখা শুরু হলো, তখন কেবলই মনে হতো, ইশ যুদ্ধ যদি আরো কিছুদিন চলতো…….! সে সবই ছিল শিশু মনের আকূলতা আর চপলতা!
যাদের সাথে স্কুলে যেতাম ওদের মধ্য আমার পাশের বাড়ির পাশের বেশ কয়েকজন বন্ধু ছিল। বাদবাকি ছিল একই গ্রাম বা পাশের গ্রামের। এখন অবশ্য অনেকের নাম ভুলে গেছি, আবার যাদের নাম মনে আছে তারাও কে কি করে সেটাও তেমন জানা নেই। তবুও যতটা সেসব বন্ধুদের কথা মনে আছে, সেসব কথামালা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

…………..প্লিজ একটু সময় দিন। আসিতেছে…………..