চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবর

  • নিচের যে খবর সমূহ আছে, সেগুলোর শিরোনাম:
  • # ব্লু হোয়েল গেমের আগ্রাসন বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব! আপনার আপনজনকে নজরদারিতে রাখুন! (১৩ অক্টোবর,২০১৭ খ্রি.)
  • # কৌতূহলী পাঠকের বিস্ময়কর ও নেতিবাচক প্রশ্নে আমার সাদামাটা জবানবন্দী!(০৩ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রি.)
  • =================================================

ব্লু হোয়েল গেমের আগ্রাসন বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব!
আপনার আপনজনকে নজরদারিতে রাখুন!
….ড. আখতারুজ্জামান।

ব্লু হোয়েল ইন্টারনেট ভিত্তিক একটা সুইসাইডাল গেম যেটি ২০১৩ সালে আবিস্কার করেন ২১ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের বহিস্কৃত রাশিয়ান ছাত্র ফিলিপ বুদেকিন। গেমটি আবিস্কার করার পর থেকেই এটি এক শ্রেণির কিশোর কিশোরী ও যুবক যুবতীদেরকে আত্মহত্যায় উদ্বুদ্ধ করে আসছিল এবং আত্মহত্যা করাতে বাধ্য করছিল। এটার কু-প্রভাবে ইতোমধ্যে রাশিয়া ভারত ও পাকিস্থানে আত্মহত্যা করেছে প্রায় ২০০ জনের মত যুব কিশোর কিশোরী, যাদের বেশিরভাগের বয়স ১২-১৯ বছরের মধ্যে। হালে আমাদের দেশে এটার আগ্রাসন নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়েছে, বিগত ০৫.১০.২০১৭ তারিখে রাজধানী ঢাকাতে হলিক্রস স্কুল এণ্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার (১৩) আত্মহত্যার মাঝ দিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে স্বর্ণার আত্মহত্যার কারণ ব্লু হোয়েল সুইসাইডাল গেম আসক্তি। স্বর্ণার মৃত্যু নিয়ে ব্লু হোয়েল গেমকে দায়ী করা হলেও কেউ কেউ এটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেও ইতোমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রামে আরো কিছু ব্লু হোয়েলে আসক্ত যুব কিশোরের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে মূহুর্তের মধ্যে ব্লু হোয়েল ভাইরাল হয়ে টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। অভিভাবক মহল ভীষণভাবে চিন্তিত তাদের যুব কিশোর কিশোরী সন্তানদের নিয়ে। সন্দেহ নেই, বিষয়টি বেশ উদ্বেগের!
এ ব্যাপারে আমি বিগত ১১ অক্টোবর এ সম্পর্কে একটা ফেবু স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। আজকে আপনাদের অধিকতর কারিগরী তথ্য সমৃদ্ধ আরেকটি প্রতিবেদন উপহার দিচ্ছি। দয়া করে এটি পড়ুন, অনেক কিছু জানতে পারবেন।

আমি একজন সরকারি চাকুরে পেশাজীবী হলেও অনেক আগে থেকেই তথ্য প্রযুক্তি ও কল্পিত বিশ্ব নিয়ে একটু খোঁজ খবর রাখতে ও পড়াশুনা করতে চেষ্টা করি; সেইসাথে স্বভাবগত ভাবে আমি একটু অনুসন্ধিৎসুও বটে! তাই এই ক’দিনে ব্লু হোয়েল গেমের আগ্রাসন থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি, সে বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সহ এটা নিয়ে বেশ খানিকটা পড়াশুনার চর্চা করে ফেললাম। শেষতক উপসংহারে এসে মনে হলো কোন বিশেষজ্ঞের পক্ষে এটার আগ্রাসন বন্ধ করা অনেকটাই অসম্ভব। কারিগরী তথ্য উপাত্তের বিশ্লেষণ সাপেক্ষে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাইছি মাত্র।

এরই মধ্যে আমার একজন বিশেষজ্ঞ বন্ধু হতে লিখিতভাবে যা জানালেন, তাতে মনে মনে ঢেঁকিতে আনন্দ নাড়ু কুটতে শুরু করেছিলাম, না বাংলাদেশে ব্লু হোয়েল কোন সমস্যা না এবং সেই বিশেষজ্ঞের মতানুসারে স্বর্ণার মৃত্যুটা ব্লু হোয়েল গেমের কারণে নয়, অন্য কোন কারণে।তাই এবারে আরো তাজ্জব বনে গেলাম, তাহলে কী স্বর্ণার আত্মহত্যার সাথে অন্য কোন সত্যিকারের কাহিনী জড়িত আছে, যেটাকে ধামাচাপা দিতে ব্লু হোয়েলকে দায়ী করা হচ্ছে? কোন কোন পত্রিকাও স্বর্ণার মৃত্যুর সাথে ব্লু হোয়েলের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি।
আমার ঐ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর লিখিত মতামত ছিল এমনই: “…এটা একটা পিসি গেইম; গেইম টা রিয়েল আইপি ছাড়া লগইন করা যায় না; গেইম টা অনলি ডার্ক ওয়েবে পাওয়া যায়, ৯০% বাঙ্গালী ডার্ক ওয়েবের নামই জানে না; ডার্ক ওয়েবে যেন তেন পাবলিক ঢুকতে পারে না,পারলেও লিংক এর জন্য গুগলের হাত পা ধরতে হয় ; ডার্ক ওয়েবে ব্যবহার করতে আলাদা ব্রাউজার লাগে; ডার্ক ওয়েব সাইট গুলো সাধারণ ওয়েবসাইট এর মত না; সেসব ওয়েবসাইটে ক্রোম, ফায়ার ফক্সের সাহায্যে কেউ ঢুকতে পারেনা ;কেউ আপনাকে লিংক না পাঠালে আপনি খেলতে পারবেন না; গেইম টা বিট কয়েন দিয়ে কিনতে হয়; এটা কোন Apk or exe ফাইল না, ব্রাউজ করে খেলতে হয়; বাংলাদেশে রিয়েল আইপি ব্যাবহারকারী নেই বললেই চলে। সবাই অনটাইম আইপি ইউজার, তাই বাংলদেশের কেউই খেলার কথা না। আর যে দেশে Pokemon GO গেমই চলে না, সেই দেশে ব্লু হোয়েল খেলে সবাই মরে যাচ্ছে? আবার খবরে দেখলাম হলিক্রসের মেয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে, ব্লু হোয়েল খেলে, ব্যাপারটা বিশ্বাস যোগ্য নয়…..।”

ব্যাস এবার আমার এই বিশেষজ্ঞ বন্ধুর মতামতকে সত্য বলে ধরে নিলেও সেটার ক্রস চেকিং করার জন্যে আরো কয়েকজন তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে এবং অনলাইনে অনেকগুলো টেকনিক্যাল আর্টিকেল পড়ে যা জানলাম তাতে রীতিমত হতাশ হওয়ার মত বিষয়! বুঝলাম আমার প্রথম বন্ধুর সব তথ্যই অনেকটাই অন্ত:সারশূণ্য। শেষতক আমার মনের বদ্ধমূল ধারণা আরো শক্ত হলো যে শুধু বাংলাদেশ কেন বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকেই এই গেম খেলা সম্ভব, অন্তত: যাদের ইন্টারনেট সম্পর্কে একটু ভাল জ্ঞান আছে এবং যাদের বাসায় কম্পিউটারে বা মোবাইলে উন্নতমানের ইন্টারনেট সংযোগ আছে। সবচে বড় কথা আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকের আইসিটি জ্ঞানের গভীরতা কিন্তু একেবারে ফেলে দেয়ার মত নয়, বরং অনেক বেশী। তাছাড়া নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি বয়সগত কারণে তারা একটু বেশিই কৌতূহলী হয়ে ওঠে। তাহলে এবারে আসুন খুব সহজ ভাষায় এই গেমের কারিগরী দিকগুলোর বিশ্লেষণ সম্পর্কে কিছু জরুরী তথ্য জেনে নিই।

প্রথমত: এটা পিসি গেইম নয়, এটা একটা ওয়েব বেজড্ গেম, অনলাইনে যেয়ে এটা খেলতে হয়। এবার ডার্ক ওয়েবের সাথে এটার সম্পর্ক খুঁজে দেখতে চেষ্টা করি।
ডার্ক ওয়েব(Dark Web) বা ডার্ক নেট(Dark Net) এটি আসলে কোন বিশেষ সাইট নয় বরং যে সাইট গুলোর তথ্যগুলো স্বাভাবিক ভাবে দৃশ্যমান নয় সেটিই ডার্ক ওয়েব(Dark Web); এগুলো খুব সুনির্দিষ্টভাবে ভাবে জানা থাকলেই শুধু সেখানে প্রবেশ করা যায়। ডার্ক ওয়েব(Dark Web) বা ডার্ক নেটের(Dark Net) বিশেষত্ব হলো সার্চ ইঞ্জিন(search engine) এটার বিষয়গুলো ইনডেক্সিং করতে পারে না ফলে সার্চ করে এখান থেকে কিছু পাওয়া যায় না। আমরা জানি, ওয়েবের দুটি ভাগ, একটি হলো Deep Web যেটি সাধারণ ভাবে দেখা যায় না আরেকটা হলো Surface Web যেটা উপর থেকে সহজে দৃশ্যমান হয়। আমরা www তে গিয়ে যা কিছু দেখি তার সবই Surface Web এবং যা দেখতে পাইনে তা হলো Dark Web. Dark Web/Deep Web/Invisible Web/Hidden Web এর তথ্যগুলো সাধারণত দ্বিপক্ষীয় নেটওয়ার্কে (friend-to-friend বা peer-to-peer) সহজে পাওয়া যায়। ডার্ক ওয়েবের গোপন বানিজ্যিক সাইটেও আছে যেখানে আণ্ডার ওয়ার্ল্ডের অনেক ব্যবসা চলে, যেমন মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা ইত্যাদি। মজিলা বা গুগুল ক্রোম দিয়ে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা যায় না সত্য তবে, ডার্ক ওয়েব জগতে বিচরনের জন্যে Tor (The Onion Router) এবং I2P (Invisible Internet Project) ব্রাউজার খুব ভাল কাজ করে কারণ এগুলি Host-to-Host VPN করে, ফলে প্রায় সকল ধরণের ফায়ারওয়াল (firewall) ভেদ করে এটি কাজ করতে পারে যা সাধারণ ভাবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়। যারা এসব নিষিদ্ধ জগতে বিচরণ করে তারা বেশ করে Tor এবং I2P ব্রাউজারের নাম জানেন, জানেন এটার ব্যবহারও। মোদ্দাকথা ডার্ক ওয়েবের গোপন লিঙ্ক পেলে সেখানে যে কেউ ঢুকতে পারবে; সুতরাং এখানে কারুর হাত পা ধরাধরির ব্যাপার নেই। ব্লু হোয়েল তো সেভাবেই বিশেষ লিঙ্ক থেকে একজন হয়ে আরেক জনের কাছে চলে এসেছে। সর্বোপরি ব্লু হোয়েল ছড়িয়েছে রাশিয়ান VK app এর মাধ্যমে; সুতরাং এখানে তো তাদের ডার্ক ওয়েবে যাবার দরকার পড়েনি।
এটা তো কম্পিউটার ভাইরাসের মত একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বাজারজাত করা হয়েছে, সুতরাং এখানে কেনাকেনির ব্যাপার অন্তর্ভূক্ত নয়। হ্যাঁ এটা সঠিক ডার্ক ওয়েবে অনেক কিছুই বিট কয়েন (bit coin) দিয়ে কিনতে হয় কিন্তু এই আত্মঘাতি গেমের সাথে বিট কয়েনের কোন লেনদেন নেই।
হ্যাঁ এটা সঠিক যে, এটা কোন .apk or .exe ফাইল নয়। এটি ব্রাউজ করে খেলতে হয়। এটি নেটওয়ার্ক বেজড্ গেম (Network Based Game); সুতরাং অনলাইনে বসে এটা অনায়াসে খেলা যায়।
আমার জানামতে বাংলাদেশে বড় বেশ কয়েকটি আইএসপি (ISP: Internet Service Provider) তাদের গ্রাহকদেরকে রিয়েল বা পাবলিক আইপি (IP) প্রদান করে থাকে। তাছাড়া দেশে এখন ইন্টারনেটের গতি সব জায়গাতেই বেশ ভালো ফলে ওয়েব বেজড্ গেম খেলতে কোন সমস্যা হবার কথা নয়।
প্রিয় পাঠক বন্ধু, আমার মনে হলো আমার প্রথম বন্ধু ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে প্রকৃত তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে যদি বিশেষজ্ঞরাই আমাদের মত আমজনতাকে বিভ্রান্ত করে তাহলে আমরা যাব কোথায়? আমি ব্লু হোয়েলের আগ্রাসন নিয়ে টেকনিক্যাল প্রশ্নের যে সরলীকরণ ব্যাখ্যা দিলাম এখানে কোন ভুল নেই বলেই আমি মনে করছি, কারণ যতটা তথ্য আমি বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করতে পেরেছি, এর থেকে ভাল কোন তথ্য আপনারা দিতে পারলে সেটা তো আরো সুখকর হবে। শুধু বাংলাদেশ কেন বিশ্বের তাবদ দেশই এই গেম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাঘা বাঘা বিশেষজ্ঞরা রীতিমত নাকাল হচ্ছে এ ধরনের গেমের আগ্রাসন ঠেকাতে যেয়ে। হ্যাঁ, এটা হয়ত বলা যেতে পারে যে, সাধারণ আইসিটি জ্ঞান সম্পন্ন কারুর পক্ষে সাদামাটা মোবাইল ফোন আর দুর্বল নেট সংযোগ নিয়ে এই গেম খেলা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা ঝুঁকির মধ্যে নেই এটা কোনভাবেই বলা যাবে না এবং এটা নিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করার ন্যূনতম কোন কারণ নেই।
এখন প্রশ্ন হলো এই গেমের বিস্তার রোধ করা কি সম্ভব নয়? তথ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুসারে আমারও মনে হয়েছে কাজটা অনেকটাই অসম্ভব! এই গেমের উৎস মুখ জানা গেলে সেখানে হয়ত পট্টি লাগানো সম্ভব। কিন্তু সেটাও একটু ডিফিকাল্ট কারণ ডার্ক ওয়েবের অনেক কিছুই অন্ধকারের অতল গহবরে লুকায়িত থাকে; সেখান থেকে আঁধারে গরু খোঁজা একটু শক্ত বৈ কি ! আবার ইন্টারনেট সম্পর্কিত Open Systems Interconnections (OSI) মডেলের যে ৭টি লেভেল রয়েছে তার সবগুলো লেভেলে সব সময় প্রবেশ অনেকটাই অসম্ভব কারন অনেক লেভেলে অনেক তথ্য শক্তভাবে লুকায়িত থাকে (Encrypted) যা ভেদ করা রীতিমত শক্ত! এতসবের পরেও একটা নালা মুখ বন্ধ করলেও হাজারো নালামুখ ওপেন করার সক্ষমতা গেমের এ্যাডমিনের রয়েছে কারন গেমের মৌল উপাদান বা সোর্স কোড রয়েছে তার/তাদের হাতেই। ব্লু হোয়েল গেম এ্যাডমিনের পালের গোদা রাশান যুবক ফিলিপ বুদেকিন ও তার আরেক সহযোগী কারাগারে অন্তরীন থাকলেও তাদের ক্রিয়েটর গ্রুপের সকল সদস্যদের হদিস আমরা জানিনে; ফলে ভিন্ন পথ দিয়ে সেটা পুন: প্রবেশ করানোর মত ক্রিয়েটর গ্রুপ মেট যে বুদেকিন রেখে যাননি কে জানে? আবার বুদেকিনের মত আরো অসংখ্য বুদেকিন বিশেষজ্ঞ দেশ বিদেশে জন্মাতে কতক্ষণ! তাই এটার উৎস মুখ চিরতরে বন্ধ করা অনেকটাই অসম্ভব, বলে আমার অর্জিত জ্ঞানে মনে হয়েছে।
এখন এটা থেকে পরিত্রানের উপায় হিসেবে আপনাকে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে: প্রথমত ব্লু হোয়েলে এ যাবত যারা আসক্ত হয়েছে তাদের থেকে যতটা জানা যায়, তাতে খেলাটায় টিনএজার ছেলে বা মেয়েকে খেলার এ্যাডমিন ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে যেসব কাজগুলো করতে উদ্বুদ্ধ করায় সেটা কতকটা এমন:(১)ব্লেড দিয়ে তোমার হাতে খোদাই করে “f57” বা “f40” লিখো, বা তিমি মাছের ছবি এঁকে সেটার ছবি পাঠাও; (২) ভোর ৪.২০ মিনিটে উঠে তোমাকে যেসব ভীতিকর ও হ্যালুসিনেশনের ছবিগুলো পাঠানো হয়েছে ওগুলো দেখবে বা সারাদিন এসব ছবিগুলো দেখতে থাকো বা ছাদের উপরে যেয়ে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটাহাঁটি করো বা রেল লাইনের উপরে গিয়ে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকো (৩) তোমার হাতের শিরার বরাবর তিনটা হালকা করে কেটে সেটার ছবি পাঠাও; (৪) তুমি যদি হোয়েল হতে চাও তাহলে তোমার পায়ের উরুতে “YES” লিখো না পারলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে রক্তাক্ত করে সেসবের ছবি পাঠাও; (৫) তোমাকে অবশ্যই তোমার ভয় দুর করতে হবে; (৬) তোমার হাতে বা ঠোঁটে সূচ ফুটিয়ে রক্তাক্ত করে সেগুলোর ছবি পাঠাও; (৭) তোমাকে যে হরোর মিউজিকগুলো পাঠানো হয়েছে সেগুলো সারাদিন শুনতে থাকো: (৮) ছাদের কিনারে যেয়ে পা ঝুলিয়ে বসো বা ব্রীজের কিনারে যেয়ে দাঁড়াও; (৯) প্রতিদিন ভোর ৪.২০ মিনিটে উঠবে এবং সারাদিন কারো সাথে কথা বলবে না; (১০) প্রতিদিন শরীরের কমপক্ষে একটা জায়গাতে ব্লেড দিয়ে ক্ষত করো; সবশেষে দিনে উঁচু ছাদের উপর থেকে লাফ দিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করো এবং আত্মহত্যার আগে একটা হাসির ছবি দিয়ে তার নিচে লিখে রেখে যাও “আমার মৃত্যর জন্যে কেউ দায়ী নয়”।
প্রিয় পাঠক, আপনার নিজের কোন সন্তান বা ভাই বোন যাদের বয়স ১২-১৯ এর মধ্যে এবং তাদের যদি আইসিটি সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে উপরের যে কোন লক্ষণ দেখলে তার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যারা একাকিত্বে ভোগেন, বিষন্নতায় থাকেন, রোমাঞ্চপ্রিয়, ঘরকুণো বা অলস টিনএজার, এবং বিকৃত যৌনতায় আসক্ত এমন ছেলে মেয়েরাই ব্লু হোয়েলের আগ্রাসনের মত গেমের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে থাকে। বাড়িতে এ রকম বয়সী বা স্বভাবী কেউ থাকলে তাদের ব্যাপারে বেশি সতর্ক হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
আপনার সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন , তার কোন মনোগত সমস্যা থাকলে সেটা সমাধানের চেষ্টা করুন; সে কিভাবে কতটুকু কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেট বা ফ্যাবলেট ব্যবহার করছে সেটা লক্ষ্য করুন; প্রয়োজনে আপনার সন্তানের ঘরে স্পাই ক্যাম লাগাতে পারেন এবং কম্পিউটারে গোপনে ইন্সটল করুন “Automatic Print Screen With Email” জাতীয় সফটওয়্যার যার মাধ্যমে আপনি আপনার ইমেইলে আপনার সন্তান কম্পিউটারে কি কাজ করছে তার বার্তা পেতে পারেন।

এরই মধ্যে আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন সব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যে, অমুক নম্বর থেকে ফোন কল আসলে ধরবেন না; বিটিআরসি’র বার্তা অনুসারে অমুক দিন রাত…..টা….টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন ইত্যাদি। বস্তুত: এরই সবই গুজব; কারণ ফোনকলের মাধ্যমে ব্লু হোয়েল ছড়ানো সম্ভব নয়, আর বিটিআরসি থেকে এমন কোন নির্দেশ কখনো আসেনি; তবে কোন অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকুন।

প্রিয় পাঠক, তাই আসুন এই ভয়ঙ্কর আসক্তি থেকে আপনার আমার সন্তানদের রক্ষা করার জন্যে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদেরকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে কুপথ থেকে সুপথে আনার চেষ্টা করি ;নচেৎ এটা থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। আমরা এখন কল্পিত দুনিয়ার মাঝে নিজেদেরকে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছি যে, এটার সাথে সমন্বয় করে চলার কোন বিকল্প নেই। এক বুদেকিন বা তার সৃষ্ট গেম থেকে পরিত্রাণ পেলেও আরো শত শত বুদেকিনের তৈরি এ জাতীয় ভিন্নতর গেম এসে আরো ভয়ঙ্কর রূপে আমাদের দোরে কড়া নাড়বে না তার গ্যারান্টি আছে কী? তাই সমন্বয়ের কোন বিকল্প নেই! সাবধান ছাড়া উপায় নেই।
বন্ধুরা, আপনাদের এই বিষয়ে আরো কোন ভাল মতামত থাকলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের (Intellectual Debate) আহবান জানাচ্ছি।
…………………………………………
লেখক: ড. আখতারুজ্জামান
(বিসিএস কৃষি, ৮ম ব্যাচ)
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার
মেহেরপুর।

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ খ্রি.

=====================================================

কৌতূহলী পাঠকের বিস্ময়কর ও নেতিবাচক প্রশ্নে আমার সাদামাটা জবানবন্দী!
…………..ড.আখতারুজ্জামান।

কল্পিত বিশ্বের সামাজিক মাধ্যমে একটু আধটু লেখালেখি করতে যেয়েই আমার লেখ্য সাধনার হাতেখড়ি। এক্কাদোক্বা করতে করতে এখনো মাঝে মাঝে ঢাউস মার্কা প্রতিবেদন লিখে ফেলি। একেবারে খুব কাছের মানুষ ছাড়া আমার এক শ্রেণির কৌতূহলী পাঠকের বিস্ময়কর জিজ্ঞাসা, আমি এতটা সময় কোথায় পায়? ফেসবুকে লেখার পাশাপাশি আজ থেকে ঠিক একমাস আগে গত মাসের ০৩ তারিখে যখন একটা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট(www.drakhtaruzzaman.info) জনগণের জন্যে উন্মুক্ত করে দিলাম, তখন সেই ওয়েবসাইটের অবয়ব এবং মেনু সাবমেনু দেখে কেউ কেউ রীতিমত ভিমড়ি খেয়ে পড়লেন এই ভেবে যে, এতবড় কর্মযজ্ঞ এই বয়সে কিভাবে একা একা সম্পন্ন করবো! কেউ বললেন “অসম্ভব”।
পাঠকের এসব প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক ফোন কল ও ক্ষুদে বার্তা পেয়েছি এবং পাচ্ছি।

এ তো গেল এক ধরনের প্রতিক্রিয়া, অন্যদিকে
টিপ্পনী দিয়ে আর ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে আড়ালে আবডালে কেউ কেউ বলা শুরু করলেন, “খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, যত্তোসব আকাম করছে…”। কেউবা জানান দিচ্ছেন, “…..অফিস কাজ বাদ দিয়ে সব ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে সময় কাটাচ্ছি….”।

তাই মনে হলো আমার কৌতূহলী আর ঈর্ষাকাতর পাঠকের বিস্ময়কর ও নেতিবাচক প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা আমার বিবেকের দায়ও বটে!

নেতিবাচক সমালোচনা শুনতে ভালই লাগে। মনে হয় মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছি! কম কিসের!? যেখানে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত মহা-মানবদের তুলোধূনা করতে মানব সন্তান ছাড়েনি, সেখানে আমি কোন ছার্!

আমার পাঠককূলের কৌতূহলী আর ঈর্ষা পরায়ণ সমালোচনার জবাব দেয়ার আগে, আমার বিশেষ কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং কর্ম কথা সম্পর্কে আপনাদের একটু অবগত করাতে চাইছি মাত্র:

(১) আমার বয়স অনেক বছর আগে অর্ধ শতাব্দী ক্রস করেছে, ফলে সরকারি চাকুরি আর বেশি দিন করতে পারবো না। শুকরিয়া এই বয়সে আল্লাহপাক এখনো অনেকখানি সুস্থ সবল কর্মক্ষম ও অফুরান মানসিক সুস্থতা বহাল রেখেছেন;
(২) ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাত্র ৩/৪ ঘন্টা ঘুমিয়ে বাকি সময়টুকু কাজ করা আমার জন্যে এখন অব্দি কোন কঠিন মনে হয় না। জানিনে আল্লাহপাক এটা কতদিন বহাল রাখবেন!!
(৩) অহেতুক সময় কম ব্যয় করি, সময় পেলে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে জ্ঞান আহরণের চেষ্টা করি। এখনো অনেক কিছু মুখস্তও করে থাকি।
(৪) এই বয়সে অনেকখানি শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেস দিয়ে কাজ করতে পারি। শুকরিয়া!
(৫) হাঁটা চলা খাওয়া দাওয়া সব কিছু মাপজোখ করে সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনা করতে চেষ্টা করি।
(৬) কম্পিউটারের অনেক প্রোগ্রাম নিজ দায়িত্বে শিখেছি স্বীয় কাজের স্বার্থে;
(৭) বাংলা টাইপিং স্পীড মন্দ নয়। যানবাহনে বসে স্মার্টফোনের কী বোর্ড টিপে ২/৪ পাতা বাংলা লিখে ফেলা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়না। আমার বেশিরভাগ ফেবু স্ট্যাটাসগুলো যানবাহনে বসে লেখা;
(৮) অফিস কাজে কোন ফাঁকিবাজির রেকর্ড আমার ২৮ বছরের সরকারি চাকুরি জীবনে নেই। বিভাগীয় কাজে পুরস্কৃত ছাড়া কখনো তিরস্কৃত হয়নি;
(৯) কম্পিউটার তথা তথ্য প্রযুক্তির সাথে আমার হাতেখড়ি সেই ১৯৯৫ সাল থেকে। সেই থেকে আজ অব্দি আমার কম্পিটারের ২ টেরাবাইট হার্ড ড্রাইভ জুড়ে দুর্লভ সব ডকুমেন্টারী ছবি ও ভিডিও রয়েছে। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্য জন কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্যেই ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট খুলে সেটার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছি; অন্য কোন উদ্দেশ্যে নেই।
(১০) অফিস সময়ে এসব ব্যক্তিগত কাজ করিনা। ছুটির অবসর এবং নিশুতি রাত হলো আমার এসব কাজ করার উত্তম সময়;
(১১) পারিবারিক কাজে আমাকে খুব কম দায়িত্ব পালন করতে হয়। বেশিরভাগ পারিবারিক কাজটা আমার গুণবতী স্ত্রী-ই করেন। অামার সকল কাজে আমার স্ত্রীর অনুক্ষণ পূর্ণ সমর্থন রয়েছে;
(১২) প্রাসঙ্গিকভাবে যে কথাটি বলতে হয়, জনকল্যাণে কিছু একটা করার ইচ্ছে থাকলেও চাকুরির এই ২৮ বছরে তেমন সুযোগ কমই পেয়েছি। আজ তিন বছর ধরে যে পদে আসীন রয়েছি সেখানে কাজের অফুরন্ত সুযোগ থাকলেও নবসৃষ্ট এ পদে কাজ করার সুবিধাদি বেশ কম। সহসা সেটা মিটে যাবে বলে আশা করছি। তা সত্বেও যথাযথ ভাবে আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি।

আমার মনে হয় কৌতূহলী এবং ঈর্ষা পরায়ণ পাঠকের সব প্রশ্নের অনেকটাই সদুত্তর দিতে পেরেছি।
যে কথাটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তাহলো, আমার ব্যাপারে কারুর যদি স্টেরিওটাইপড্ বদ্ধমূল নেতিবাচক ধারণা থেকে থাকে তাহলে আমি যতই তার/তাদের পদলেহন পদসেবা আর ষষ্ঠাঙ্গ প্রণামই করিনা না কেন, তা কোন কাজে আসবে না; ওরা ওদের কাজ করবেই।সৃষ্টিশীলতাকে সবাই ভাল চোখে দেখে না। তাই পৃথিবীর বড় বড় মানুষদের বিখ্যাত অনেক সৃষ্টিশীল আবিষ্কারের শুরুটা পাগলামিতে পরিপূর্ণ ছিল। অনেক বিজ্ঞানীর জানও কতল করা হয়েছে। এটা ইতিহাসের অমোঘ সত্য।

এতসবের পরেও বিপ্রতীপ ভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় আমার সাথে আছেন অসংখ্য অসংখ্য পাঠক, যারা আমার পথের পথেয় এবং অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। এই এক মাসে আমি আমার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ব্যাপারে অকুন্ঠ মনোগত সমর্থন ও প্রশংসা পেয়েছি অগণিত পাঠকের কাছ থেকে। এই এক মাসে ৪২৮৯ জন পাঠক আমার সাইট ভিজিট করেছেন; গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩৯ জন ভিজিট করেছেন। ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে এই অল্প দিনে দেশ বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের নিয়মিত দর্শন, পঠন ও ব্যবহারে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত। তথাপিও অফিসের গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অত্যাবশ্যকীয় কাজের সমন্বয় শেষে যে স্বল্প সময় হাতে থাকে সেটার সর্বোত্তম ব্যবহার করেও মেনু ও সাব-মেনুতে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড বিলম্বিত হচ্ছে। আমার কর্মস্থল মেহেরপুর এলাকার দুর্বল ইন্টারনেট সেবাও এক্ষেত্রে একটা বড় অন্তরায় বটে! আমার এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ও অপারগতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার বিনম্র আহবান রইলো। একটু অপেক্ষা করুণ, আপনাদের মনোবাঞ্চা পূরণ করতে সক্ষম হবো ইন শা আল্লাহ্।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সহসাই আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী জন মানুষের কাছে বেশ গ্রহণীয় হয়ে উঠবে, যার রেশ বহমান থাকবে কাল থেকে কালান্তরে!

আপনাদের পূর্ণ মনোগত সহযোগিতা ও মানসিক শক্তি আমার চলার পথকে সুগম করবে।
দোয়া চাই।
————————–
লেখক: কৃষিবিদ ড. আখতারুজ্জামান
(বিসিএস কৃষি, ৮ম ব্যাচ)
জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার
মেহেরপুর।

০৩ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রি: