কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের বন্ধু

কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে আমি এসএসসি পাশ করলেও সেখানে পড়েছি মাত্র এক বছর। এক বছরের মধ্যে ছুটিছাটা বাদ দিলে ৬ মাসের বেশি সেখানে ক্লাস করতে পারিনি। বরং জিলা স্কুলে যাদের সাথে পড়েছি ওদের প্রায় সবার সাথেই কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়েছি দু বছরের মত।এখন প্রশ্ন হতে পারে এই ৬ মাসের জন্যে কেন জিলা স্কুলে পড়তে গেলাম? সেটাও এক বিশেষ কাহিনী!
বস্তুতঃ আমাদের সময়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র হওয়াটা একটা সৌভাগ্য এবং গৌরবের বিষয় ছিল বটে! স্বীয় যোগ্যতা ব্যতিত অন্য কোন যোগ্যতায় সেখানে ভর্তি হওয়া যেত না। আমি সেখানে পড়ার আগে জেলা স্কুলের পাশ দিয়ে যাবার সময় চেয়ে চেয়ে দেখতাম আর ভাবতাম সেখানে যারা পড়ে তারা বেশ ভাগ্যবান আর ভাল ছাত্র। বিভিন্ন ক্লাসে সিট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে সেখানে ভর্তি হতে হতো। আমি ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস নাইন অব্দি পড়েছি কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়াস্থ মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ স্কুলে। বিদ্যাপীঠে ক্লাস নাইন থেকে টেনে উঠি ক্লাসে ফার্স্ট হয়ে। আমার ভাল রেজাল্টের কথা শুনে আমার ফুপাতো দুলাভাই আমাকে পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল স্কুলে ভর্তি করে সেখানে পড়াতে চান, কারণ ঐ স্কুলের মান বেশ ভাল। রহমান দুলাভাই তখন পেপার মিলের চীফ কেমিস্ট ছিলেন। আবার বাবাও এতে রাজি ছিলেন কিন্তু মা রাজি না হওয়ায় সেখানে আর যাওয়া হয়না। ওদিকে আমি তো এই সুখবরে আহলাদে আটখানা। তাই আনন্দের জোয়ারে আমার স্কুল সহ সব জায়গা খবরটা চাউর করে দিই। বলে রাখা ভাল, পাকশি পেপার মিলের সার্বিক পরিবেশ ছিল সে সময় এক কথায় অসাধারণ, ফলে সেখানে গিয়ে পাঠ গ্রহণ আমার জন্যে ভীষণ আকর্ষণীয় ছিল। পরে সেখানে না যেতে পারার কারণে মনটা খারাপ হয়ে যায়। ইত্যেবসরে খবর পাই, কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে বিভিন্ন ক্লাসে কিছু ছাত্র ভর্তি করা হবে।  সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমি সেখানে ভর্তি হই, ক্লাস টেনে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিকে। তবে আমার পূর্ববর্তী স্কুল ছেড়ে আসতে খুব বেগ পেতে হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক রাগতস্বরে আমার টিসি স্বাক্ষর করেন, বিজ্ঞান শিক্ষক বিনয় স্যার রীতিমত কটূ কথা বলা শুরু করেন।
তারপরেও বলবো কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে সামান্য ক’দিন পড়লেও স্কুলের সার্বিক পরিবেশ আমাকে অামার পড়ালেখার গতিকে অনেকখানি বেগবান করেছিল। আমরা কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছিলাম ৩৩ জন, এর মধ্যে খুব সম্ভব ৩ জন মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিল আর বাদবাকি ছিল বিজ্ঞান শাখার ছাত্র। এই ৩৩ জনের মধ্যে ১ জন এসএসসি তে অকৃতকার্য হয়েছিল, বাদবাকি সবার রেজাল্ট কমবেশি ভাল ছিল। আমি ৪ বিভাগে লেটার সহ ৭১৩ নম্বর পেয়েছিলাম। রেজাল্টের ক্রমানুসারে ১ম: সুভাষ, ২য়: আতাউর, ৩য়:নিশিথ, ৪র্থ: নাজমুল, ৫ম খলিল, ৬ষ্ঠ: অামি। এখানে যে কথাটি না বললেই নয়, তাহলো আমার রেজাল্ট এতটা ভাল হতো না, যদি জেলা স্কুলে না পড়তাম।
সবার সাথেই অল্প দিনে কম বেশি বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কলেজে পড়ার সময় স্কুল বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্টতা আরো কিছুটা বাড়ে।
আমরা যে ৩৩ জন বন্ধু একত্রে এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছিলাম তার মধ্য আমি যাদের নাম মনে করতে পারছি তারা হলো:
আরিফ, আতাউর, সুভাষ, নিশিত, নাজমুল, খলিল, মান্নান, হামিদ, নুরুনব্বী, মহিবুল্লাহ, রতন, মুকুল,জয়ন্ত, তাজ, কিশোর, মোস্তফা, মিজান, ওয়াজেদ, রসুল, মানিক, মিলু, মাহমুদ, আরাফাত, ওয়াহেদুজ্জামান ও আমি। এই ২৫ জন বাদে আর কারুর নাম মনে করতে পারছি না। এদের সম্পর্কে যতটা তথ্য আমার মনে পড়ছে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাইছি।

……বিস্তারিত আসিতেছে……একটু সময় দিবেন প্লিজ