আমার সুজন বন্ধু!

  • সুপ্রিয় পাঠক বন্ধু,
    মানুষ হিসেবে আমি ক্যামন সে বিবেচনার ভার আপনাদের স্ব স্ব মূল্যায়নের ব্যাপার। তবে নিজস্ব বিবেকের আদালতের বিচারে আমি মানুষ হিসেবে বোধহয় খুব খারাপ না। আমি বরাবরই একজন বন্ধু বৎসল মানুষ। নতুন- পুরাতন, ধনী-দরিদ্র প্রতিষ্ঠিত- অধঃপাতিত, অগ্রজ- অনুজ সকল  ধরনের বন্ধুদেরকে আমি বন্ধু হিসেবে দেখার ব্যাপারে  কোন কৃপণতা  করিনা। অধ:পাতিত বন্ধুদের সাথে বেশি ঘনিষ্ট হতে চেষ্টা করি যেন ওরা আমাকে অহংকারির তকমা আমার গায়ে না লাগাতে পারে। নীতিগতভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন কাজে কোন বন্ধুকে আমি কখনো ব্যবহার করিনি; কখনো এক পয়সা ধার করিনা, কোন বন্ধু হতে। নিরেট নিষ্কুলষ বন্ধু যাকে বলে সেটা আমি মেনে চলতে চেষ্টা করি। এটা ঠিক যে বন্ধুত্বকে বজায় রাখতে যেয়ে কখনো কিছু গোনাগারি দিতে হয়; ব্যয় হয় মূল্যবান সময় ও অর্থ;  সাথে সাথে সেটার পরোক্ষ চাপ পড়ে  পরিবারের সদস্যদের উপরেও। রাত্র দ্বিপ্রহরে, অতি প্রত্যুষে বন্ধুদের উদর পূর্তি ও তাদের শয়ন সেবায় আমার সাথে আমার স্ত্রী সন্তানেরা ও সমভাবে তাল মিলিয়ে চলে। আমার নিজের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমার স্ত্রী সন্তানদের মধ্যে বহমান থাকার কারণে এ নিয়ে আমাকে কখনো বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়নি। এ দিক দিয়ে আমি সত্যিই ভাগ্যবান!
    এ সবই ভাল খবর, তবে পিলসুজের পাদপৃষ্ঠে অন্ধকারের ন্যয় আমি আমার অসংখ্য বন্ধুদের দ্বারা নানাভাবে অপমানিত লাঞ্ছিত অসম্মানিত ও ব্যবহৃত হয়েছি এবং জীবনে যে ক’দিন বেঁচে আছি, সে কদিন বোধহয় এভাবেই চলবে। অবস্থাদৃষ্ট তেমনটিই মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমার রাশিফলে কোন সমস্যা আছে। আমি বেশ বুঝি, আমার জন্ম হয়েছে আমার সবার ধরনের বন্ধুদের সেবা করার জন্যে, বন্ধুদের সেবা পাবার জন্যে নয়। এ নিয়ে আমার ক্ষোভ আছে, কষ্ট আছে, আছে দুঃখবোধ। মাঝে মাঝে এসব ঘটনা আমাকে আহত করো, আমি সাময়িকভাবে  মুষড়ে পড়ি কিন্তু এখনো  হতদ্যোম হয়নি। জানিনে জীবনের বাকি ক’টা দিন কিভাবে কাটবে !
    মানুষের জন্যে কিছু করার জন্যে একটা আলাদা আত্মতুষ্টির ব্যাপার আছে, যদিও আমার অবস্থা অবস্থান এবং চাকুরির ধরনানুসারে মানব সেবা করার সুযোগ অত্যাল্প, তথাপি আমার যতটা সুযোগ আছে সেটার সর্বোত্তম ব্যবহারে কোন প্রকার কৃপণতা নেই।
    যাক বন্ধুদের কাজ বন্ধুরা করেছে বা করছে। আমার বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ আমার এই কলামটির অবতারণা। এখানে আমার সকল ক্যাটাগরির বন্ধুর জন্যে আমার মনোভঙ্গির একান্ত কিছু কথামালা তুলে ধরতে চেষ্টা করবো। এখানে বন্ধু মানে সহপাঠি বা সমবয়সী নরনারী ছাড়াও অগ্রজ অনুজ অাত্মীয় অনাত্মীয় এ ধরনের কিছু কাছের মানুষের কথার সাজিকে সন্নিবেশ করতে চেষ্টা করেছি।  দ্বিবিধ কারণে আমার এই কলাম লেখার প্রচেষ্টা; প্রথমত: বন্ধুর প্রতি আমার ভক্তি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার বহি:প্রকাশ ঘটানো; দ্বিতীয়ত: আমার উত্তরসূরী নব প্রজন্মের কাছে আমার বন্ধুত্বের স্বরূপটা উন্মোচন করা। আমার কাছে বন্ধুর সংগা একটু ভিন্নতর! “সহপাঠি সহযোগি সহকারী বন্ধু সে তো নয়, হৃদয়ে হৃদয়ে জোড়া লেগে বন্ধু যে হয়!” আমি ঐ ধরনের বন্ধুকে বুঝিয়েছি। 
    প্রসংগত বলতে হয়, যারা একটু বয়স্ক হয়েছেন, উনারা বেশ করে বুঝতে পারবেন; বন্ধুত্বের সূচনা পর্ব থেকে শুরু করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একই উচ্চতায় বিচরণ করা বন্ধুর সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি পাওয়া যাবে না। সময়ের পথ পরিক্রমায় অবস্থা আর অবস্থানগত কারণে অনেক বন্ধুর বৈশিষ্টের আমূল পরিবর্তন সাধন হতে দেখা যায়, ফলে আমরা কখনো বলতে বাধ্য হই, “……..অমুক আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল, কিন্তু এখন নেই…….”!
    বস্তুতঃ মনোরহস্যের রসায়নিক বিক্রিয়াটা বড্ড জটিল কঠিন এবং unpredictable!
    তবে সবা কথাকে ছাপিয়ে বলতেই হয় যার শেষ ভাল তার সব ভাল। এটাই মানুষের চিরায়ত মনোগত ধর্ম। কার্যত: বর্তমান সময়ই সবচে উত্তম সময়।

     ্আমার বন্ধু, অগ্রজ বন্ধু, অনুজ বন্ধু সবার জন্যে এই কলামটি ধীরে ধীরে পরিশীলিত করা হবে।আমার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু সহ আমার সব ধরনের শুভাকাঙ্খীদের সম্পর্কে ইতিবাচক কথার সাজি দিয়ে কলামটি সাজাতে চাই, যেন অন্যেরা এ্টা দেখে উৎসাহিত বোধ করেন।আমি জীবনে যাদের কাছে অনেক ঋণী বা কৃতজ্ঞ তাঁদের সম্পর্কেও এখানে আমার বক্তব্য থাকবে। তবে অতি ব্যক্তিগত, নেতিবাচক বা স্পর্শকাতর কোন বক্তব্য এখানে কোনভাবেই প্রকাশ করা হবে না। এই কলামের বিপরিতে যেসব সাব কলাম আছে সেগুলোতে চোখ রাখুন, নিত্য নতুন তথ্য পাবেন।